নোয়াখালী সোসাইটির মাহফিলে মাওলানা নূর

নোয়াখালী সোসাইটির মাহফিলে মাওলানা নূর

নোয়াখালী সোসাইটির মাহফিলে মাওলানা নূর

মাতাপিতাই হচ্ছে সন্তানের প্রকৃত শিক্ষক

ব্রুকলীন: ছেলেমেয়েরা মানুষ হওয়াই বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিদান। তাই পিতা-মাতার দায়িত্ব হচ্ছে তাদের লালন-পালন করা, দের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষাদান ও ইসলামের আলোকে নৈতিক চরিত্র গঠন অপরিহার্য। পারিবারিক পরিবেশে শিশুরা বড় হতে থাকবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধও তাদের হৃদয়ে জাগ্রত হবে। একজন সন্তানের প্রকৃত শিক্ষক হচ্ছে তার মাতাপিতা। গত ৯ জুলাই শনিবার বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির আয়োজনে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে এ সব কথা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফররত কাতার রিলিজিয়ার্স এ্যাফেয়ার্স সেন্টারের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা ইউসুফ নূর।‘মাতাপিতার হক সন্তানের করণীয়’ এ বিষয়ে কুরআন-হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবা-মার আন্তরিক ভালোবাসা ও স্নেহের পরশে সন্তানদের সুন্দর জীবন গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালোবাসা যতই আত্মিক হোক না কেন, জনক-জননী হিসেবে সন্তানের অধিকার ও তাদের প্রতি মাতা-পিতার কর্তব্য পালনে যথেষ্ট দায়দায়িত্ব পালন করতে হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তান লালন-পালনে বাবা-মায়ের অধিকার সচেতন এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যথাযথ সচেষ্ট হওয়ার তাওফিক কামনা করেন মাওলানা ইউসুফ নূর।তিনি বলেন, সন্তান প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তেমনি সন্তানের কাছে তার পিতা-মাতা আশীর্বাদস্বরূপ। নেককার সন্তান দুনিয়া-আখেরাতে সুখের অন্যতম কারণ। নেককার পিতামাতার সন্তান নেককারই হয়। মা হচ্ছে সন্তানের প্রকৃত শিক্ষাঙ্গন।
মাওলানা নূর যৌতুক হিন্দুয়ানি প্রথা উল্লেখ করে বলেন, যৌতুক আমাদের সমাজের রন্ধে রন্ধে প্রবেশ করেছে। ইচ্ছা অনিচ্ছা অনেকে জড়িয়ে পড়ছে যৌতুকে, কেউ এখান থেকে মুক্ত নয়। ইসলামী শরীয়াহ মতে যৌতুক সম্পন্ন হারাম। এটা হিন্দুয়ানি প্রথা। সুতারাং কোন মুসলমান তা গ্রহন করতে পারে না।মাহফিল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ব্রুকলীনে ১১৮ বিভার্লি রোডে নোয়াখালী ভবনে। শুরুতে বক্তব্য রাখেন, সোসাইটির আন-নূর কালচারাল সেন্টারের পেন্সিপাল মুফতি ইসমাঈল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দারুল জান্নাহ মসজিদের খতিব মাওলানা ইব্রাহিম খলিল। তাফসীর শেষে আলোচনার উপর বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর ছাড়াও বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীসহ বিশ্বশান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইনকের আয়োজনে প্রতিমাসের দ্বিতীয় শনিবার তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিষয় ভিক্তিক আলোচনা রাখেন ইসলামিক স্কলারগণ। আগামী ১৩ আগষ্ট শনিবার মাহফিলে তাফসীর পেশ করবেন তরুণ ইসলামিক স্কলার হাফেজ জাকির আহমেদ।

 

নোয়াখালী সোসাইটির মাহফিলে মাওলানা রফিক

নোয়াখালী সোসাইটির মাহফিলে মাওলানা রফিক

নোয়াখালী সোসাইটির মাহফিলে মাওলানা রফিক
আল্লাহ মুসলমানদের জান-মাল ক্রয় করেছেন জান্নাতের বিনিময়ে
ব্রুকলীন: বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইনকের আয়োজনে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল গত ১৩ আগস্ট শনিবার অনুষ্ঠিত হয় ব্রুকলীনের সোসাইটি ভবনে। মাহফিলে “কুরবানীর শিক্ষা আমাদের করণীয়” বিষয়ে তাফসির পেশ করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ম্যানহাটন আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের খতিব মাওলানা রফিক আহমেদ। পবিত্র কুরআন-হাদীস শরীফের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কুরবানীর ঘটনার দ্বারা এ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) দুনিয়ার সকল কিছুর উপর অর্থাৎ নিজের সন্তানের জীবনের চেয়েও আল্লাহর হুকুমকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার হুকুমের কাছে নিজের এবং তার সন্তানের জীবন তুচ্ছ করে দিলেন আল্লাহ প্রিয় নবী হযরত ইব্রাহিম (আ:)। তিনি নিজের সন্তানকে কুরবানী দিতে গিয়ে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা ইতস্ততা বোধ করেন নি, কিংবা কোন অজুহাত ও তুলে ধরেননি। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন “আল্লাহ মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে।
তিনি বলেন, কুরবানী আমাদেরকে অহংকার নয় বরং আল্লাহভীতি শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তায়ালার হুকুম মানতে গিয়ে জীবন চলে যেতে পারে, তবুও বাতিলের সাথে আপোষ করা যাবে না। সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মূলতঃ এটাই হচ্ছে কুরবানীর শিক্ষা।
মাহফিল সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি নাজমুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু, উপদেষ্টা শাহ নাসের স্বপন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, সহ সাধারণ সম্পাদক মো: ইউসুফ জসিম কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে বিশ্বশান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।